• শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৩ অপরাহ্ন
Headline
কালের সাক্ষী ২৫০ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক গোল মসজিদ চন্ডিপাশা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনী হাওয়া: বিএনপির ৪ জামায়াতে ১ স্বতন্ত্র ২জন সহ সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীর গণসংযোগ শোক সংবাদ, শিশু সাহিত্যিক আমীরুল ইসলাম আর নেই হোসেনপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরের আম গাছে বিশাল ভিমরুলের চাক, আতঙ্কে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ কুলিয়ারচর পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে প্রর্থীতা ঘোষণা দিয়ে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় হাজী মো. শাহ্ আলম কবি আলমগীর খোরশেদের শুভ জন্মদিন কুলিয়ারচরে র‍্যাবের অভিযানে ৪০ কেজি গাঁজাসহ আটক-১; ছবি ও ভিডিও ধারনে সাংবাদিকদের বাধা হোসেনপুরে পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়নে সমবায় বিভাগের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালিত হোসেনপুরে ৫৩তম গ্রীষ্মকালীন জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা-২০২৬ এর পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত  হোসেনপুরে “মানুষ, পৃথিবী ও সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা” প্রতিপাদ্যে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালিত

কালের সাক্ষী ২৫০ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক গোল মসজিদ

Reporter Name / ১৪ Time View
Update : শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

কালের সাক্ষী ২৫০ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক গোল মসজিদ

হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ)সংবাদ দাতা:

কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে অনেক পুরোনো স্থাপনা। আধুনিকতার ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে গ্রামবাংলার চিরচেনা দৃশ্যপট। এরই মধ্যে ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাক্ষী হয়ে প্রায় আড়াইশ বছর ধরে দাঁড়িয়ে আছে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার শাহেদল ইউনিয়নের বাগপাড়া এলাকার প্রাচীন ও দৃষ্টিনন্দন ‘গোল মসজিদ’। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও মসজিদটির স্থাপত্যশৈলী ও নির্মাণকৌশল এখনো স্থানীয়দের কাছে বিস্ময়ের বিষয়।

স্থানীয়দের কাছে এটি শুধু একটি উপাসনালয় নয়, বরং এলাকার ইতিহাস, ধর্মীয় ঐতিহ্য ও প্রাচীন স্থাপত্যের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। সময়ের নানা পরিবর্তনের মধ্যেও মসজিদটি তার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ধরে রেখেছে। স্থানীয় মুসল্লি ও বাসিন্দাদের মতে, একসময় প্রত্যন্ত এই অঞ্চলে ইসলামি ধর্মীয় শিক্ষা ও ধর্ম প্রচারের ধারক-বাহক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে ঐতিহাসিক এ মসজিদ।

মোগল আমলের স্থাপত্যশৈলীর আদলে নির্মাণ

প্রাপ্ত শিলালিপি ও স্থানীয় প্রবীণদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মসজিদটি মোগল আমলের স্থাপত্যশৈলীর আদলে নির্মিত বলে জানা যায়। পরবর্তীতে হিজরি ১২১৯ সালের দিকে মসজিদটি পুনর্নির্মাণ করা হয় বলে স্থানীয় সূত্রে উল্লেখ রয়েছে।

স্থানীয় ইতিহাস-ঐতিহ্য নিয়ে আগ্রহী ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সুদূর ইরাক থেকে ভারতবর্ষের পূর্বাঞ্চল তথা পূর্ব বাংলায় ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে শেখ শামছুদ্দিন হোসেনপুর পরগনার শাহেদল ইউনিয়নের বাগপাড়া এলাকায় এসে বসতি স্থাপন করেন।

তবে সে সময় জমিদারি আমলে এলাকাটি হিন্দু অধ্যুষিত হওয়ায় সেখানে মসজিদ নির্মাণ নিয়ে তৎকালীন সমাজপতিদের বিরোধিতার মুখে পড়তে হয়েছিল বলে স্থানীয়ভাবে প্রচলিত রয়েছে। পরবর্তীতে শেখ শামছুদ্দিনের দুই ছেলে শেখ আদম ও শেখ আলম বাগপাড়া এলাকায় মসজিদ নির্মাণ করেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রাচীন মসজিদটির দেয়াল প্রায় তিন ফুট প্রশস্ত। মসজিদের ছাদের উপরের অংশ সম্পূর্ণ গোলাকার আকৃতির হওয়ায় স্থানীয় মানুষের কাছে এটি ‘গোল মসজিদ’ নামে পরিচিতি পেয়েছে।

প্রাচীন নির্মাণশৈলীর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এর গাঁথুনি। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, চুন, ইট ও আখের লালি ব্যবহার করে মসজিদটির গাঁথুনি তৈরি করা হয়েছিল। আধুনিক নির্মাণসামগ্রীর ব্যবহার ছাড়াই শত শত বছর আগে এমন মজবুত ও স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণের বিষয়টি এখনো দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে।

মসজিদের ভেতরের আয়তন তুলনামূলক ছোট। ইমামসহ প্রায় তিন কাতারে ১৯ জন মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন বলে স্থানীয় মুসল্লিরা জানিয়েছেন।

সময়ের সঙ্গে পরিবর্তন, তবুও টিকে আছে মূল ঐতিহ্য

স্থানীয় মুসল্লিদের দাবি, মসজিদটির বয়স ২৫০ বছরেরও বেশি। দীর্ঘ সময় ধরে নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও সময়ের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলা করে এটি টিকে রয়েছে। বর্তমানে এলাকাবাসীর উদ্যোগে মসজিদটির কিছু অংশ সম্প্রসারণ করা হয়েছে।

মসজিদের ভেতরে টাইলস বসানো হয়েছে এবং চারপাশে রং করা হয়েছে। ফলে মসজিদটি বর্তমানে আগের তুলনায় আরও পরিচ্ছন্ন ও ব্যবহার উপযোগী হয়েছে। তবে আধুনিকায়নের পাশাপাশি এর মূল ঐতিহাসিক স্থাপত্যশৈলী ও প্রাচীন বৈশিষ্ট্য সংরক্ষণ করা জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এত পুরোনো একটি স্থাপনা এখনো টিকে থাকা নিঃসন্দেহে হোসেনপুরের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কিন্তু যথাযথ সংরক্ষণ ও সরকারি নজরদারির অভাবে ভবিষ্যতে মসজিদটির ঐতিহাসিক বৈশিষ্ট্য নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তাই ঐতিহাসিক গোল মসজিদটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে এর বয়স, নির্মাণকাল, স্থাপত্যশৈলী ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব যাচাই করার জন্য প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

তাদের দাবি, বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে মসজিদটির ইতিহাস ও স্থাপত্য নিয়ে গবেষণা করা হোক। পাশাপাশি এটিকে প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে প্রয়োজনীয় সংরক্ষণ ও সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হোক।

স্থানীয়রা আরও বলেন, যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা গেলে গোল মসজিদটি শুধু ধর্মীয় স্থাপনা হিসেবেই নয়, হোসেনপুরের অন্যতম ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থান হিসেবেও পরিচিতি পেতে পারে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ইতিহাস ও ঐতিহ্যপ্রেমী মানুষ এখানে আসতে পারবেন। এতে স্থানীয় ইতিহাস সম্পর্কে নতুন প্রজন্মের জানার সুযোগ তৈরি হবে এবং একই সঙ্গে এলাকার পর্যটন সম্ভাবনাও বাড়তে পারে।

প্রায় আড়াইশ বছরের পুরোনো এই গোল মসজিদ তাই আজও কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। অতীতের ধর্মীয় ও সামাজিক ইতিহাসের নানা স্মৃতি বুকে ধারণ করে থাকা এই প্রাচীন স্থাপনাটি যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এটি হয়ে উঠতে পারে হোসেনপুরের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের এক মূল্যবান নিদর্শন।

সূএ-সঞ্জিত চন্দ্র শীল/ পি পি


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা