• রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৩৩ অপরাহ্ন
Headline
কুলিয়ারচরে তিন মাসব্যাপী পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা ও ডেঙ্গু মশক নিধন অভিযান উপলক্ষে আলোচনা সভা ও র‍্যালি আড়াইবাড়িয়া ইউনিয়নে নির্বাচনের প্রস্তুতি, দলীয় মনোনয়ন চান বিএনপি নেতা মারশাফি বিন মর্তুজা আনোয়ার গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীতা ঘোষণা দিয়ে মানুষের দোরগোড়ায় সুলতানা উদ্দিন আরশ কালের সাক্ষী ২৫০ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক গোল মসজিদ চন্ডিপাশা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনী হাওয়া: বিএনপির ৪ জামায়াতে ১ স্বতন্ত্র ২জন সহ সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীর গণসংযোগ শোক সংবাদ, শিশু সাহিত্যিক আমীরুল ইসলাম আর নেই হোসেনপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরের আম গাছে বিশাল ভিমরুলের চাক, আতঙ্কে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ কুলিয়ারচর পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে প্রর্থীতা ঘোষণা দিয়ে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় হাজী মো. শাহ্ আলম কবি আলমগীর খোরশেদের শুভ জন্মদিন কুলিয়ারচরে র‍্যাবের অভিযানে ৪০ কেজি গাঁজাসহ আটক-১; ছবি ও ভিডিও ধারনে সাংবাদিকদের বাধা

অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক আর নেই

Reporter Name / ১৭৪ Time View
Update : রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬

অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক আর নেই

মো. শাহজাহান
বাংলা একাডেমির সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান প্রখ্যাত প্রাবন্ধিক ও গবেষক অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক আর নেই। গতকাল রোববার দুপুরে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে রাজধানীর মিরপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর। জানা গেছে, রোববার দুপুর আড়াইটা থেকে তিনটার মধ্যে মিরপুর-১ নম্বরের একটি রেস্তোরাঁয় দুপুরের খাবার খেতে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে হঠাৎ অসুস্থ বোধ করলে তাঁকে দ্রুত ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক ও অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের সরাসরি ছাত্র মোহাম্মদ আজম মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। গুণী এই চিন্তাবিদের প্রয়াণে দেশের বুদ্ধিবৃত্তিক, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের জন্ম ১৯৪০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার চরপাকুন্দিয়া গ্রামে। তিনি ১৯৫৯ সালে ময়মনসিংহ জিলা স্কুল থেকে প্রবেশিকা এবং ১৯৬১ সালে আনন্দ মোহন কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে ১৯৬৫ সালে স্নাতক ও ১৯৬৬ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে তিনি মুনীর চৌধুরী, আহমদ শরীফ ও নীলিমা ইব্রাহিমের মতো প্রথিতযশা শিক্ষাবিদদের সান্নিধ্যে আসেন এবং প্রগতিশীল ভাবাদর্শে উদ্বুদ্ধ হন। কর্মজীবনে তিনি দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে অধ্যাপনা করেছেন এবং বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবেও অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৪ সালের অক্টোবরে অন্তর্বর্তী সরকার তাঁকে তিন বছরের জন্য বাংলা একাডেমির সভাপতি হিসেবে নিয়োগ দেয়। আজীবন প্রগতিশীল রাজনীতির সমর্থক এবং মুক্তবুদ্ধি চর্চার পুরোধা এই ব্যক্তিত্ব সর্বস্তরে বাংলা ভাষার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা রক্ষা কমিটি’র আহ্বায়ক হিসেবে রাজপথে ও লেখনীর মাধ্যমে সোচ্চার ভূমিকা পালন করেছেন।
দীর্ঘ মননশীল সাহিত্যজীবনে তিনি ২০টিরও বেশি মূল্যবান গ্রন্থ রচনা ও সম্পাদনা করেছেন। তাঁর রচিত ‘মুক্তির সংগ্রাম’, ‘কালের যাত্রার ধ্বনি’, ‘একুশে ফেব্রুয়ারি আন্দোলন’, ‘রাজনীতি ও দর্শন’, ‘সাহিত্য চিন্তা’ এবং ‘সংস্কৃতির সহজ কথা’ বইগুলো এ দেশের প্রগতিশীল চিন্তার খোরাক জুগিয়েছে। ১৯৮১ সালে প্রবন্ধ ও গবেষণায় অনন্য অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত হন। এই মহান শিক্ষাবিদের ব্যক্তিগত জীবনও ছিল এক গভীর ট্র্যাজেডিতে ভরা। ২০১৫ সালের ৩১ অক্টোবর তাঁর একমাত্র পুত্র এবং প্রগতিশীল প্রকাশনা সংস্থা ‘জাগৃতি প্রকাশনী’র স্বত্বাধিকারী ফয়সল আরেফিন দীপন শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটে উগ্রপন্থীদের নির্মম হামলায় নিহত হন। পুত্র হত্যার পরও অধ্যাপক ফজলুল হক চরম ধৈর্য, সততা ও সাহসের পরিচয় দিয়েছিলেন। তিনি দেশে প্রতিশোধের রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও সামাজিক অবক্ষয় দূর করে সুস্থ সমাজ প্রতিষ্ঠার তাগিদ দিয়েছিলেন, যা তৎকালীন সময়ে পুরো জাতিকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল।
অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের আকস্মিক প্রয়াণে দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মহলে শোকের ঢল নেমেছে। তাঁর মৃত্যুতে গভীর দুঃখ ও শোক প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাবিদ ও বুদ্ধিজীবীরা। শোকবার্তায় তাঁরা বলেছেন, অধ্যাপক ফজলুল হকের মতো একজন আপসহীন ও নির্মোহ চিন্তাবিদের চলে যাওয়া দেশের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি, যা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমাজ এবং তাঁর প্রিয় ছাত্ররা ফজলুল হকের এই বিদায় কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা গভীর শোক প্রকাশ করে বলেছেন, অধ্যাপক ফজলুল হক কেবল একজন শিক্ষক ছিলেন না, তিনি ছিলেন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবেক ও প্রগতির বাতিঘর। ক্লাসরুমের ভেতরে ও বাইরে তিনি যেভাবে সত্য বলতে শিখিয়েছেন এবং মুক্তবুদ্ধির চর্চা করিয়েছেন, তা নতুন প্রজন্মের শিক্ষকদের জন্য আজীবন অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে তাঁর প্রিয় ছাত্ররা গভীর আবেগ ও কান্নাজড়িত কণ্ঠে স্মৃতিচারণ করে বলেছেন, স্যার আমাদের শুধু বাংলা সাহিত্য পড়াননি, তিনি আমাদের সমাজকে ভালোবাসতে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে শিখিয়েছেন। তাঁর সরল জীবনযাপন এবং জ্ঞানের প্রতি গভীর নিষ্ঠা আমাদের হৃদয়ে চিরকাল অম্লান থাকবে। স্যারের এই মহাপ্রয়াণে এক বিশাল শূন্যতার সৃষ্টি হলো, যার অভাব প্রতিটি প্রগতিশীল মানুষ আজীবন অনুভব করবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা