হোসেনপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত শিশু আলিফ ও আহত পরিবারের পাশে ইউএনও কাজী নাহিদ ইভা
হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) সংবাদ দাতা :
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত শিশু আলিফ (১২) ও আহত অপর এক শিশুর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী নাহিদ ইভা। দুর্ঘটনায় শোকাহত দুই পরিবারকে সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি তাদের আর্থিক সহায়তা ও খাদ্যসামগ্রী প্রদান করা হয়েছে।
জানা যায়, নিহত শিশু আলিফ উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের পিপলাকান্দি গ্রামের ফারুক মিয়ার ছেলে। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, গত সোমবার বিকেলে বোর্ড বাজার এলাকার একটি চায়ের দোকানের পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পিছন দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা একটি অটোরিকশা তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। দুর্ঘটনার তীব্রতায় আলিফ গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়ে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়।
একই দুর্ঘটনায় আলিফের চাচাতো বোন মোশাররফ মিয়ার ৬ বছর বয়সী কন্যা গুরুতর আহত হয়। বর্তমানে সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। পরিবারের সদস্যরা জানান, শিশুটির শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলেও এখনও তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী নাহিদ ইভা নিহত ও আহত শিশুর বাড়িতে যান। তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন, তাদের খোঁজখবর নেন এবং দুর্ঘটনায় গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেন। এ সময় তিনি বলেন, “একটি শিশুর অকাল মৃত্যু কোনোভাবেই পূরণ হওয়ার নয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবারগুলোর পাশে থাকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।”
পরিদর্শনকালে ইউএনও দুই পরিবারের হাতে সরকারি সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ তুলে দেন। পাশাপাশি শুকনো খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। এ সময় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল আলীম সহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বোর্ড বাজার এলাকায় প্রায়ই বেপরোয়া গতিতে অটোরিকশা ও অন্যান্য যানবাহন চলাচল করে। ফলে পথচারীরা ঝুঁকির মধ্যে থাকেন। তারা ওই এলাকায় যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ এবং সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন।
এদিকে, শিশু আলিফের মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয়রা এ ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন। আহত শিশুটির দ্রুত সুস্থতা কামনা করে সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন তার পরিবারের সদস্যরা।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানা গেছে। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে এমন মর্মান্তিক ঘটনা এড়াতে সড়ক নিরাপত্তা জোরদারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সূএ-সঞ্জিত চন্দ্র শীল/ পি পি